শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে ‘মার্চ ফর ঢাকা’ ঘোষণা।

 

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ, ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে ‘মার্চ ফর ঢাকা’ ঘোষণা

ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শনিবার রাজধানীতে গণমিছিলপূর্ব সমাবেশ করেছে। সমাবেশে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, "ভারতে মুসলিমদের নির্মূলের অপচেষ্টা চলছে। ওয়াকফ আইন পরিবর্তন করে মুসলিমদের জমি, মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থান দখল করা হচ্ছে।" তিনি মোদী সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, মুসলমানরা জাগ্রত হলে মোদী সরকারের মসনদ টিকে থাকবে না।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও ওআইসিকে ভারতের মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "নাস্তিকদের পদায়ন করে সুখে থাকা যাবে না। নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নয়তো জনগণ সমর্থন প্রত্যাহার করবে।"

মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, "আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন। সংস্কার ছাড়া কোনো গুন্ডামি মার্কা নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।" তিনি দ্রুতই ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে 'মার্চ ফর ঢাকা' কর্মসূচি ঘোষণা করার ঘোষণা দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই।

 

বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে উঠেছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন ছিল ‘বৈষম্যের এক জ্বলন্ত উদাহরণ’।

নির্বাচনের দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। দলটি এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ দাবি করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটি আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের শুনানি পেছানো হচ্ছে বারবার, যা দলটির মতে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রের আইন বিভাগ কি তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে?

চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী যুব আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজুম মোল্লা বলেন, “সাংগঠনিক ব্যানারে বৈষম্য দূর করার আন্দোলন করেছি রাজপথে থেকে, পুনরায় বৈষম্য দেখার জন্য নয়।” তিনি আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানিতে সম্ভাব্য বৈষম্য এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং আদালতের স্বচ্ছতা এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা আরও হ্রাস পেতে পারে।

বরিশাল শহরের সাধারণ মানুষও এ নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের বিশ্বাসে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে।

আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

দেখতে থাকুন 'ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা' — সত্যের সন্ধানে, আমরা সবসময় আপনার পাশে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অভ্যুত্থানের রক্তের সাথে গাদ্দারীর সমতূল্য


 নির্বাচন নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অভ্যুত্থানের রক্তের সাথে গাদ্দারীর সমতূল্য

-------------------- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ আজ ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন—

“মুক্তি, সাম্য, সুশাসন ও সমৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলের মানুষ ৪৭ ও ৭১-এ দুই দফা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে। ৯০-এ স্বৈরাচার উৎখাত করেছে। তারপরেও দেশে হাসিনার মতো স্বৈরাচার তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভঙ্গুরতার কারণে। ফলে আগামীর বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচারের পথ রুদ্ধ করতে সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারকে বাধাগ্রস্থ করে এমন কোন কিছুই দেশবাসীর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব না।”


তিনি আরও বলেন—

“হাসিনার মতো স্বৈরাচারের সূচনাও হয়েছিল একটি নির্বাচনের মাধ্যমে। পতিত ফ্যাসিবাদও তিনটা নির্বাচন করেছে। তারপরেও জাতিকে ২৪-এ রক্ত উৎসর্গ করতে হয়েছে। এর অর্থ হলো, নির্বাচনই সমাধান না। বরং সংস্কারহীন নির্বাচন আরেকটি স্বৈরচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেবে। সেকারণে ইসলামী আন্দোলন পরিস্কার করে বারংবার দাবী জানাচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”


অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন—

“সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে তাতে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক চাপে সংস্কারকে অসম্পন্ন রেখে নির্বাচন আয়োজন করলে শতশত শহীদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করা হবে। অভ্যুত্থানে আহতরা এখনো হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।”


তিনি আরও বলেন—

“এই সরকার একটি অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার বহন করছে। ফলে সেই অভ্যুত্থানের দাবী ও চেতনা বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। আজকে যারা সংস্কারকে গৌন করে নির্বাচনের জিগির তুলেছে; ২৪-এর অভ্যুত্থানে তাদের অবদান স্বীকার করার পরেও বলতে হবে, ২৪-এ সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক শক্তির অবদানই ছিল প্রধান ও মূখ্য। ফলে এখন ক্ষমতাকেন্দ্রীক দলগুলোর চাপে অভ্যুত্থানের প্রধান ধারার চিন্তা ও চেতনাকে জলাঞ্জলি দিলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই নির্বাচন নয় বরং সংস্কারকে মূখ্য করেই সরকারকে তাদের রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।”


নির্বাচন নিয়ে চাপ তৈরি করা দলসমূহের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন—

“আপনার দলের নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করে দেখুন। তাতেই দেখা যাবে রাজনৈতিক হানাহানি ও সংহিংসতা কি তীব্র ও হিংস্র আকারে এখনো বিরাজমান। এই বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে দেশকে আবারো সহিংস ও হিংস্র রাজনীতির মধ্যে ঠেলে দেয়ার জন্য ২৪-এ ছাত্র জনতা রক্ত দেয় নাই।”


#ইসলামীআন্দোলনবাংলাদেশ 

#নির্বাচন২০২৫ 

#রাজনৈতিকসংস্কার 

#গণতন্ত্র 

#অভ্যুত্থান 

#সংবাদ


বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

দ্ব্যর্থক বক্তব্যে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন।


দ্ব্যর্থক বক্তব্যে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা, ঢাকা:

রাজনীতির মাঠে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিএনপি নেতাদের  বক্তব্য নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষত, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদমির্জা আব্বাসের সাম্প্রতিক দুটি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে


২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বক্তব্যে বলেছিলেন,


একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতেদেশে একটা নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে।”


কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল তিনিই আবার বলেন,


কেউ যদি এটাকে বিপ্লব বলতে চায় তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করবএটা কোনো সামাজিক বিপ্লব নয়।”


ধরনের ভিন্নমুখী বক্তব্যে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা


অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বলেছিলেন,


 “সংস্কারের কথা বলছেনঘটটুঁ লেগে করেনআমাদের কোনো আপত্তিও নাই।”


কিন্তু ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ তিনি বলেন,
ওদের কোনো সংস্কার আমরা সহজে মেনে নেব নাসংস্কার যদি করেন, আমরা কারেকশন করব।”


বক্তব্যে এই ধরনের পরিবর্তন জনগণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য হতে হবে পরিস্কার, দৃঢ়ধারাবাহিকঅন্যথায় সাধারণ জনগণ দলের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করে


জনমতের প্রতিফলন:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেনিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনাঅনেকেই বলছেন, "নিজেরা স্থির হতে না পারলে জনগণকে কীভাবে নেতৃত্ব দেবেন?"


সামনের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই ধরনের বিবৃতি দলটির গ্রহণযোগ্যতা এবং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেএখন দেখার বিষয়, বিএনপি নেতৃত্ব কীভাবে এই দ্ব্যর্থক বার্তাগুলো পরিষ্কার করবে

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২, ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’


নববর্ষের আনন্দে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত


স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | ১৪ এপ্রিল ২০২৫


আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩২। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চলছে আনন্দ-উৎসবের বর্ণিল আয়োজন। আর তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।


এই বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল – ‘ববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক দৃঢ় বার্তা বহন করে।

সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ঢাক-ঢোল, বাউল সুর, মুখোশ, পুতুল, বিশালাকৃতির পশুপাখির প্রতিকৃতি আর লোকজ শিল্পে সাজানো ছিল পুরো এলাকা। এই শোভাযাত্রা যেন হয়ে ওঠে একটি চলমান ক্যানভাস—যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি, প্রতিবাদ ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।


শোভাযাত্রার রুট:
শোভাযাত্রাটি শুরু হয় চারুকলা অনুষদ থেকে। এরপর এটি শাহবাগ মোড় হয়ে ঘুরে যায় টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর এবং বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা ধরে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে আসে।
এই পথে হাজারো মানুষ উল্লাসে অংশ নেন, কেউ দর্শক হিসেবে, কেউবা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে। কেউ মুখোশ পরে, কেউ রঙিন পোশাক গায়ে দিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন আনন্দময় এই যাত্রার মাধ্যমে।


শিল্প ও বার্তা—একসাথে:
প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির প্রতীক sculpture ও মুখোশ। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তায় ছিল—


অসাম্প্রদায়িকতা
মানবতা
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য
সংস্কৃতির শক্তিতে সমাজ পরিবর্তনের ডাক
চারুকলা অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন,


“আমরা শুধু আনন্দ করতেই এই শোভাযাত্রায় অংশ নিই না, বরং প্রতিবাদ করি—শিল্পের ভাষায়, চিত্রের ভাষায়। এবারের থিম খুব শক্তিশালী। এটা বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।”


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পরিবেশনা:
শোভাযাত্রার আগে ও পরে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার।
ছায়ানট আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী গান ও আবৃত্তির
ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রামীণ পরিবেশনার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা
পোশাকে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি, ফুলের মালা, আলপনা ইত্যাদি


ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিকতা:
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে এই আনন্দ শোভাযাত্রা পেয়েছে ইউনেস্কোর "Intangible Cultural Heritage" স্বীকৃতি। যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এই উৎসবের তাৎপর্য বাড়িয়ে তোলে।
নববর্ষ মানেই কেবল দিন বদলের উৎসব নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবিকতা, সহাবস্থান ও প্রতিবাদী চেতনার নতুন সূচনা।


আজকের ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য সেই চেতনার প্রতিফলন। আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য রূপ।

শনিবার, ১২ এপ্রিল, ২০২৫

ঢাকায় ‘মার্চ ফর গাজা’: জনতার ঢল, ফিলিস্তিনের প্রতি সংহতি প্রকাশ


‘মার্চ ফর গাজা’: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকাবাসীর জনসমুদ্র, ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ

ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার

আজ ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো ‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক বিশাল সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি, যেখানে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।

সমাবেশের মূল বার্তা:

“গাজার প্রতি ভালোবাসা, মানবতার পক্ষে আমাদের অবস্থান”—এই মূল বার্তা সামনে রেখে মানুষ সারিবদ্ধভাবে ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হতে থাকেন। সকাল ১০টা নাগাদ পুরো উদ্যানে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পেশাজীবী, খেলোয়াড় ও মানবাধিকার কর্মীরা জড়ো হন।

আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী:

এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’, যেখানে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা, খেলোয়াড় এবং সাধারণ মানুষ সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।

বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন—

ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি

শায়খ আহমাদুল্লাহ

সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ

সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান

বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা

মানুষের অনুভূতি:

বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, এই কর্মসূচি শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন নয়, বরং বিশ্ব মানবতার পক্ষে এক জোরালো অবস্থান। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন,

“আমরা আজ শুধু গাজার মানুষের জন্য কাঁদতে আসিনি, তাদের সঙ্গে দাঁড়াতে এসেছি। ইতিহাসের ঠিক পথে আমরা থাকবো—এই আমাদের অঙ্গীকার।”

নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা:

সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর কিন্তু শান্তিপূর্ণ। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়, ট্রাফিক ছিল নিয়ন্ত্রিত, এবং কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।

এই ‘মার্চ ফর গাজা’ ছিল মানবিকতা ও ন্যায়ের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের এক সাহসী উচ্চারণ। এটি প্রমাণ করে, অন্যায় যেখানেই হোক, প্রতিবাদ গড়ে ওঠে সীমান্ত পেরিয়ে, হৃদয়ের বন্ধনে।



বৃহস্পতিবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৫

রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়েছে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।


 ইসলামী আন্দোলনের সংস্কার প্রস্তাব জমা, ১৪৫টিতে ঐকমত্য


আজ ১০ এপ্রিল, বৃহস্পতিবার দুপুর বারোটায় জাতীয় সংসদ ভবনের জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্যালয়ে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের সংস্কার প্রস্তাব হস্তান্তর করে।

কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজের হাতে প্রস্তাবপত্র তুলে দেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ। প্রতিনিধি দলে আরও ছিলেন অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন ও কে এম শরিয়াতুল্লাহ।

ইসলামী আন্দোলন কমিশনের ১৮২টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৪৫টিতে একমত, ২৬টিতে দ্বিমত এবং ৪১টি নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এছাড়া ৪টি মৌলিক প্রস্তাবও দিয়েছে দলটি।

দলটি সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তন, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, একই ব্যক্তি যেন দল, সরকার ও সংসদ প্রধান না হন, প্রধানমন্ত্রী পদে মেয়াদসীমা নির্ধারণ, ৭০ অনুচ্ছেদ বিলুপ্তি এবং পিআর পদ্ধতির নির্বাচন প্রবর্তনের মতো প্রস্তাবগুলোতে ঐকমত্য পোষণ করেছে।

রাষ্ট্রের নাম পরিবর্তনের প্রস্তাবে সমর্থন জানিয়ে ‘পিপলস ওয়েলফেয়ার স্টেট অফ বাংলাদেশ’ নাম প্রস্তাব করেছে ইসলামী আন্দোলন, যা জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি বহন করে।

বিচার বিভাগীয় ২৩টি প্রস্তাবের মধ্যে ২১টির সাথেই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশে একমত পোষন করেছেএর বাইরে শরীয়াহ কোর্ট স্থাপনের প্রস্তাব দেয়া হয়েছে এবং প্রমানিত অপরাধীকে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা করার ক্ষেত্রে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সম্মতিকে যুক্ত করার প্রস্তাব করা হয়েছে

জনপ্রশাসন বিষয়ে প্রস্তাবিত মোট ২৬টি সংস্কারের মধ্যে ১২টি একমত পোষন করেছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ৯টি প্রস্তাবের সাথে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছেআর ০৫টির সাথে আংশিক একমত পোষণ করা হয়েছেএরমধ্যে বিশেষ করে প্রদেশিকসিটি গভর্নমেন্ট প্রস্তাবের সাথে এবং মেম্বারদের ভোটে চেয়ারম্যান নিয়োগের বিষয়ে দ্বিমত পোষণ করা হয়েছেএবং অফিসিয়াল সিক্রেট এক্ট সংশোধনের বদলে পুরো বাতিলের প্রস্তাব করা হয়েছেপ্রশাসনের উর্ধতন কর্মকর্তাদের নিয়োগে মন্ত্রীপরিষদ কমিটিরও বিরোধিতা করা হয়েছে

সংবিধান সংস্কার কমিশনের ৭০ টি প্রস্তাবের মধ্যে ৬১ টি প্রস্তাবে একমত, ০৩টি একমত পোষন করা হয় নাই। ৬ টিতে আংশিক একমত পোষণ করা হয়েছেনতুন প্রস্তাব এবং মন্তব্য যুক্ত করা হয়েছে ১১ টিমৌলিক প্রস্তাব ৪টি

বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের ২৩ টি প্রস্তাবের মধ্যে ২১ টি প্রস্তাবে একমত, ০২ টিতে দ্বিমত পোষন করা হয়েছে
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের ২৬ টি প্রস্তাবের মধ্যে ১২ টি প্রস্তাবে একমত, ০৯ টি একমত পোষন করা হয় নাইএকটি বিশেষ মুল্যায়নসহ ১৩ টি নতুন প্রস্তাবনা যুক্ত করা হয়েছে

নির্বাচন সংস্কার কমিশনের ২৭ টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৮ টি প্রস্তাবে একমত, ০৯টি একমত পোষন করা হয় নাইনতুন প্রস্তাবনা যুক্ত করা হয়েছে একটি

দুদক সংস্কার কমিশনের ২১ টি প্রস্তাবের মধ্যে ১৮ টি প্রস্তাবে একমত, ০৩টি একমত পোষন করা হয় নাইনতুন প্রস্তাবনাটিসুপারিশ যুক্ত করা হয়েছে তিনটি

পুলিশ সংস্কার কমিশনের ১৫ টি প্রস্তাবের সবগুলোতেই একমত পোষণ করা হয়েছে