✍️ তৌহিদ তাবরিজি
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
✍️ তৌহিদ তাবরিজি
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
চট্টগ্রাম প্রতিনিধি ॥
“আদর্শ রাষ্ট্র গঠনে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ভূমিকা” শীর্ষক সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবে। বৃহস্পতিবার (২ অক্টোবর ২০২৫) বিকাল ৩টায় ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু ও নৃ-গোষ্ঠী কল্যাণ বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত এ সেমিনারে দেশের বিশিষ্ট রাজনৈতিক, আইনজীবী, শিক্ষাবিদ ও নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু ও নৃ-গোষ্ঠী কল্যাণ সম্পাদক আল-মিজান মুহাম্মাদ নোহেল এবং সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মুহাম্মাদ তাজুল ইসলাম শাহীন।
প্রধান অতিথি ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান বলেন—
“সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ছাড়া একটি জাতি কখনোই টেকসই উন্নয়ন অর্জন করতে পারে না। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসই সাক্ষ্য দেয়, সব ধর্ম ও মতের মানুষ একসাথে রক্ত দিয়ে বাংলাদেশকে স্বাধীন করেছে। তাই ভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল হওয়া এখন শুধু নৈতিক দায়িত্ব নয়, বরং রাষ্ট্র নির্মাণের অপরিহার্য শর্ত।”
প্রধান বক্তা ইসলামী যুব আন্দোলনের কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ বলেন—
“বাংলাদেশ একটি বহু ধর্মের দেশ। এখানে শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে মুসলিম, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টান মিলেমিশে বসবাস করছে। এই বৈচিত্র্যের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের শক্তি। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে না পারলে জাতীয় উন্নয়ন ও ঐক্য ব্যাহত হবে।”
সেমিনারে প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক প্রফেসর ড. বেলাল নুর আজিজী।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন—
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মাদ জান্নাতুল ইসলাম
চট্টগ্রাম মহানগরের সেক্রেটারি আল-মুহাম্মাদ ইকবাল
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী এডভোকেট শংকর প্রসাদ দে
মহেশখালীর সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান মুহাম্মাদ জয়নাল আবেদীন
আইনজীবী বিজয়া সম্মিলন পরিষদের সভাপতি এডভোকেট মধুসূদন দাশ
পার্বত্য নাগরিক পরিষদের চেয়ারম্যান কাজী মজিবর রহমান মজিব
রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির এডহক মেম্বার ইঞ্জিনিয়ার থোয়াই চিং মং শাক
বাংলাদেশ ছাত্র অধিকার পরিষদের সাবেক কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব পাইশিখই মারমা প্রমুখ।
বক্তারা বলেন, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি একটি সমাজকে শান্তি, স্থিতিশীলতা ও উন্নতির পথে এগিয়ে নিয়ে যায়। ভিন্নমতের প্রতি সহনশীলতা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধার মাধ্যমেই গড়ে উঠতে পারে একটি শান্তিপূর্ণ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ।
✍️ তৌহিদ তাবরিজিও
য়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার:
গণঅধিকার পরিষদের সভাপতি ও ফ্যাসিবাদ বিরোধী লড়াইয়ের সাহসী নেতা নুরুল হক নুরের ওপর প্রশাসনের হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে দলের যুগ্ম মহাসচিব ও মুখপাত্র মাওলানা গাজী আতাউর রহমান এক বিবৃতিতে বলেন, “ফ্যাসিবাদ-উত্তর এই সময়ে নুরুল হক নুরের মতো নির্যাতিত ও সাহসী নেতার ওপর হামলা কোনভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা সহ্য করা যায় না।”
তিনি বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের মূল চাওয়া ছিলো যেকোনো ধরণের ফ্যাসিবাদী উত্থান প্রতিহত করা। অথচ জাতীয় পার্টি বিগত আমলে গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে এবং ফ্যাসিবাদের পক্ষে ন্যাক্কারজনক ভূমিকা পালন করেছে। আওয়ামী ফ্যাসিবাদের আইনী ভিত্তি তৈরিতে তাদেরই প্রধান ভূমিকা ছিল। ৫ আগস্টের পর জাতীয় পার্টির বিষয়ে যথাযথ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি। এখন সেই ইস্যুতে নুরুল হক নুরকে রাস্তায় লাঠিপেটা করা স্পষ্টত জুলাই অভ্যুত্থানের বিরুদ্ধে অবস্থান নেয়া বলেই প্রমাণিত হচ্ছে।
ইসলামী আন্দোলনের মুখপাত্র আরও বলেন, “আমরা বিশ্বাস করতে চাই, এটি মাঠে থাকা সেনা ও পুলিশ সদস্যদের তাৎক্ষণিক ভুল সিদ্ধান্তের ফল। তবে কেন একজন শীর্ষ ফ্যাসিবাদ বিরোধী নেতাকে মারধোর করা হলো, তার জবাবদিহি থাকতে হবে। এ ঘটনার পেছনে কারা উস্কানি দিয়েছে, তা খুঁজে বের করে শাস্তির আওতায় আনতে হবে।”
তিনি সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের দ্রুত ও কার্যকর ভূমিকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, অন্যথায় কারা ফ্যাসিবাদের পক্ষে দাঁড়ানোর সাহস করছে তা ফ্যাসিবাদ বিরোধী শক্তি দেখবে।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে আয়োজন করা হয় এক ব্যতিক্রমী প্রতীকী ম্যারাথন। সোমবার (২৫ আগস্ট ২০২৫) সকালে নগরীর ঐতিহাসিক প্যারেড কর্ণার থেকে শুরু হয়ে দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে শহীদ মিনারে গিয়ে শেষ হয় এ ম্যারাথন।
🚩 রুট: প্যারেড কর্ণার → গণি বেকারী মোড় → জামল খান মোড় → চেরাগি পাহাড় → আন্দরকিল্লা → লালদিঘি → কোতোয়ালী → নিউ মার্কেট → শাহ আমানত মার্কেট → শহীদ মিনার।
শত শত তরুণ-যুবক ও শিক্ষার্থীর অংশগ্রহণে এই আয়োজনে উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি হয়।
অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের সভাপতি শাহাজাহান হোসেন। তিনি বলেন,
> “তরুণদের সুস্থ দেহ-মন গঠনে খেলাধুলা অপরিহার্য। আমাদের এই প্রতীকী ম্যারাথন তরুণ সমাজকে ইতিবাচক কর্মকাণ্ডে উদ্বুদ্ধ করবে।”
প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম-১০ আসনের এমপি পদপ্রার্থী আলহাজ্ব জান্নাতুল ইসলাম। তিনি তরুণদের প্রশংসা করে বলেন,
> “সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনার শক্তি তরুণদের হাতেই। ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের এই আয়োজন তা প্রমাণ করছে।”
বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল ইসলাম রবি। তিনি বলেন,
> “শিক্ষা, শৃঙ্খলা ও নৈতিকতাকে ধারণ করেই দেশের ভবিষ্যৎ গড়তে হবে। এই প্রতীকী ম্যারাথন তারই প্রতীক।”
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। অনেকেই বলেন, পড়াশোনার বাইরে এ ধরনের আয়োজন তাদের মানসিকভাবে সতেজ করে এবং ঐক্যের বন্ধন দৃঢ় করে।
সংগঠনের মহানগর সাংগঠনিক সম্পাদক শাহারিয়ার রবিন জানান, এ উদ্যোগের মাধ্যমে তারা তরুণদের সুস্থ বিনোদনের পাশাপাশি নৈতিকতা ও শৃঙ্খলার বার্তা ছড়িয়ে দিতে চান।
তৌহিদ তাবরিজি
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
৫০০ মোটরবাইক ও ৫০টি পিকআপ নিয়ে শক্তিশালী শোভাযাত্রা।
চট্টগ্রাম-১১ আসনে আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কর্তৃক হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী হিসেবে জননেতা নুরুদ্দিন মনোনীত হওয়ার পর সমর্থক ও নেতা-কর্মীদের উদ্যোগে এক বিশাল মোটরযান শোডাউন অনুষ্ঠিত হয়েছে।রিপোর্টার : তৌহিদ তাবরিজি
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
স্টাফ রিপোর্টার: সাদ্দাম হোসেন রাজু
ঢাকা, ১৪ আগস্ট ২০২৫ — আজ ১৪ আগস্ট, উপমহাদেশে মুসলমানদের স্বাধীনতা দিবস। ১৯৪৭ সালের এই দিনে ভারতীয় উপমহাদেশের মুসলমানদের জন্য স্বাধীন রাষ্ট্র — পাকিস্তান — আত্মপ্রকাশ করে। তৎকালীন পূর্ব বাংলা (বর্তমান বাংলাদেশ) প্রথমবারের মতো স্বাধীন মুসলিম ভূখণ্ডের অংশ হয়ে ওঠে।
শুভ স্বাধীনতা দিবস!
পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে বসে আছে বাংলার বাঘ, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তিনি ও অন্যান্য নেতৃবৃন্দ ধর্মীয় স্বাধীনতা ও রাজনৈতিক অধিকারের জন্য নিরলস কাজ করেছেন। তাদের অবদান পরবর্তীতে বাংলাদেশের জাতীয় চেতনার ভিত্তি হিসেবে কাজ করেছে।
ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট
প্রায় ১৫০ বছরের ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের পর, ৩ জুন ১৯৪৭-এ লর্ড মাউন্টব্যাটেন ভারত বিভাজনের পরিকল্পনা ঘোষণা করেন। এতে ভারত ও পাকিস্তান নামে দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্ম হয়। নতুন সীমান্ত নির্ধারণের দায়িত্ব পান স্যার সাইরিল র্যাডক্লিফ, যিনি মাত্র কয়েক সপ্তাহে ভারতীয় উপমহাদেশের নতুন সীমানা চিহ্নিত করেন।
বিভাজন ও এর প্রভাব
বিভাজনের ফলে প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ থেকে ২ কোটি মানুষ ধর্মভিত্তিকভাবে স্থানান্তরিত হন। এছাড়া কয়েক লাখ থেকে ২০ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটে। সহিংসতা, দাঙ্গা, নারী নির্যাতন ও গ্রাম পোড়ানোর ঘটনা বিভাজনের সময় ও পরবর্তী মাসে ভয়াবহ রূপ ধারণ করে।
বঙ্গভাগের সিদ্ধান্ত
২০ জুন ১৯৪৭-এ তৎকালীন বেঙ্গল লেজিসলেটিভ অ্যাসেম্বলিতে ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত হয়—পূর্ব বাংলা পাকিস্তানের অংশ হবে, পশ্চিম বাংলা ভারতের অন্তর্ভুক্ত হবে। ৬ জুলাই ১৯৪৭-এ সিলেটে অনুষ্ঠিত গণভোটেও অধিকাংশ মানুষ পাকিস্তানে যোগদানের পক্ষে মত দেন।
১৪ আগস্টের তাৎপর্য
১. মুসলিমদের জন্য আলাদা রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠা: ধর্ম, সংস্কৃতি ও রাজনৈতিক অধিকারের নিশ্চয়তা।
২. সাতচল্লিশের বিভাজন: হিন্দু সংখ্যাগরিষ্ঠ শাসন থেকে মুক্তি।
৩. ধর্মীয় স্বাধীনতা: মুসলিমদের জন্য শরীয়াহ অনুযায়ী জীবনযাপনের সুযোগ।
৪. ঔপনিবেশিক শাসন থেকে মুক্তি: ব্রিটিশ শাসন ও উচ্চবর্ণের প্রভাব থেকে স্বাধীনতা।
ইতিহাসবিদদের মতে, ১৪ আগস্ট কেবল পাকিস্তানের জন্মদিন নয়, বরং উপমহাদেশের মুসলিমদের ধর্মীয়, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক স্বাধীনতার প্রতীক। বিশেষ করে পূর্ব বাংলার জন্য এটি জাতীয় পরিচয়ের ভিত্তি স্থাপনের প্রথম ধাপ।
চট্টগ্রাম, ০৬ আগষ্ট ২০২৫ (বুধবার)
(সাদ্দাম হোসেন রাজু, ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা)
গতকাল মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) চট্টগ্রামে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহানগরের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত “স্মরণে জুলাই গণঅভ্যুত্থান” কর্মসূচিতে শহীদদের স্মরণ, কুরআন খতম, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী ও সাংস্কৃতিক সন্ধ্যার মাধ্যমে ৫ আগস্টের ইতিহাস নতুন প্রজন্মের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। বক্তারা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আহতদের চিকিৎসা, পিআর পদ্ধতিতে নির্বাচন এবং বিচার সংস্কারের দাবি জানান।
গতকাল বিকেল ২টায় ২নং গেইটের বিপ্লব উদ্যানে অনুষ্ঠিত কর্মসূচিতে কুরআন খতম ও দোয়া, জুলাই স্মৃতিচারণ, তথ্যচিত্র প্রদর্শনী, শহীদ পরিবার ও আহতদের সংবর্ধনা এবং সাংস্কৃতিক সন্ধ্যা আয়োজন করা হয়।
প্রধান অতিথি অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান (প্রেসিডিয়াম সদস্য, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ) বলেন—
“জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শাহাদাত বরণ করেছেন, আল্লাহ তাঁদের জান্নাতের উচ্চ মাকাম দান করুন। এখনো যারা আহত ও অসুস্থ আছেন, তাঁদের চিকিৎসা সঠিকভাবে হচ্ছে না। মাননীয় প্রধান উপদেষ্টা ও স্বাস্থ্য উপদেষ্টা সঠিকভাবে দায়িত্ব পালন করছেন কিনা সেটি পুনর্বিবেচনা করা প্রয়োজন। পাশাপাশি যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন তাঁদের খাদ্য, বস্ত্র ও চিকিৎসার যথাযথ ব্যবস্থা করতে হবে।”
সভাপতিত্ব করেন মুহাম্মদ জানাতুল ইসলাম (কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক [চট্টগ্রাম বিভাগ] ও সভাপতি, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগর)।
তিনি বলেন—
“শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষায় আমাদের সতর্ক থাকতে হবে।”
যুব নেতা আল মিজান মোহাম্মদ নোহেল (কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু ও নৃ-গোষ্ঠী বিষয়ক সম্পাদক ও সভাপতি, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ, চট্টগ্রাম মহানগর) বলেন—
“৫ আগস্টে ছাত্র-জনতার জীবনের বিনিময়ে যে স্বাধীনতা অর্জন হয়েছে, নতুন স্বৈরাচারীদের কারণে সেই স্বাধীনতা আমরা নষ্ট হতে দেব না। আগামী নির্বাচনে পিআর পদ্ধতি ছাড়া কোনো নির্বাচন হতে পারে না। পাশাপাশি বিচার সংস্কারের পরে একটি সুস্থ ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের দাবি জানাচ্ছি।”
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন অন্যান্য রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দও। তাঁদের মধ্যে ছিলেন—
ডা. শাহাদাত হোসেন, মেয়র, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন
অধ্যাপক নুরুল আমিন, সেক্রেটারি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী
মোহাম্মদ আরিফ জোবায়ের, কেন্দ্রীয় যুগ্ম সংগঠক, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
অধ্যাপক আলাউদ্দিন শিকদার, আমির, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চট্টগ্রাম উত্তর জেলা
কারী ফজলুল করিম জিহাদি, কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক, বাংলাদেশ নেজাম ইসলাম পার্টি
মোহাম্মদ জাওয়াদুল করিম, কেন্দ্রীয় সদস্য, জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)
মোহাম্মদ সিদ্দিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় সদস্য ও যুগ্ম আহ্বায়ক, এবি পার্টি চট্টগ্রাম মহানগর
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সামাজিক-সাংস্কৃতিক সংগঠনের প্রতিনিধি, শহীদ পরিবারের সদস্য এবং সাধারণ জনগণ উপস্থিত ছিলেন।
চট্টগ্রাম, ০১ আগষ্ট ২০২৫ (শুক্রবার)
(সাদ্দাম হোসেন রাজু, ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা)
ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার উদ্যোগে দেওয়ানহাটস্থ আল-ইসহাক অডিটোরিয়ামে সংগঠনের ৯ম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন নগর সভাপতি আল-মিজান মুহাম্মাদ নোহেল এবং সঞ্চালনা করেন সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাসউদুর রহমান আল-হাবিবী।
প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সভাপতি প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ।
“নতুন প্রজন্ম বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে ২০২৪-এর স্বৈরাচার মুক্ত নতুন স্বাধীনতা অর্জন করেছে। সেই রক্তের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে কেউ নব্য স্বৈরাচার হওয়ার স্বপ্ন দেখলে ইসলামী যুব আন্দোলন শক্ত হাতে প্রতিরোধ করবে।”
— প্রকৌশলী আতিকুর রহমান মুজাহিদ
তিনি আরও বলেন, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ও এর সহযোগী সংগঠনগুলো অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে। ইসলামী আন্দোলনের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)সহ শীর্ষ নেতারা সরাসরি রাজপথে ছিলেন। আন্দোলনে বহু নেতা-কর্মী শহীদ ও আহত হয়েছেন।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) ও মহানগর সভাপতি আলহাজ্ব মুহাম্মাদ জান্নাতুল ইসলাম, ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) মুহাম্মাদ তাজুল ইসলাম শাহিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ মহানগর সেক্রেটারি আল-মুহাম্মাদ ইকবালসহ বিভিন্ন সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।
সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর কমিটির সহ-সভাপতি, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, সাংগঠনিক সম্পাদক, দফতর সম্পাদকসহ সকল থানার শাখা নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টার : তৌহিদ তাবরিজি
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ অনুষ্ঠিত
চট্টগ্রাম, ১৩ জুলাই ২০২৫ (রবিবার): ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ চট্টগ্রাম মহানগরের উদ্যোগে নগরীর হালিশহর জামি'আ বাইতুল করিম মাদ্রাসা কমপ্লেক্স প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়েছে।
কেন্দ্রীয় সংখ্যালঘু ও নৃ-গোষ্ঠী কল্যাণ সম্পাদক এবং চট্টগ্রাম মহানগর সভাপতি যুবনেতা আল-মিজান মুহাম্মদ নোহেলের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মাওলানা মাসউদুর রহমান আল-হাবিবীর পরিচালনায় এই কর্মসূচি শুরু হয় দুপুর ১২টায়।
কর্মসূচির প্রধান অতিথি ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ-এর আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই)। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক (চট্টগ্রাম বিভাগ) আলহাজ্ব মুহাম্মাদ জান্নাতুল ইসলাম, আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আল্লামা ড. বেলাল নুর আজিজী, চট্টগ্রাম মহানগর সেক্রেটারি আলহাজ্ব মুহাম্মাদ আল-ইকবাল এবং বাংলাদেশ মুজাহিদ কমিটি চট্টগ্রাম মহানগরের সম্মানিত ছদর আলহাজ্ব আবুল কাশেম মাতব্বর।
এছাড়া ইসলামী যুব আন্দোলন চট্টগ্রাম মহানগরের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণ করেন। উপস্থিত ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক রবিউল হাসান মিজান, প্রচার সম্পাদক উমর ফারুক আজাদ, প্রকাশনা সম্পাদক ক্বারী আবু বকর বিন সিদ্দিক, অর্থ সম্পাদক তরিকুল ইসলাম জাবেদ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল, উপ-সম্পাদক ও হালিশহর থানা শাখার সভাপতি সাদ্দাম হোসেন রাজু এবং উপ-সম্পাদক নাসির উদ্দিন তুহিন প্রমুখ।
বৃক্ষরোপণ ও চারা বিতরণের পর সভাপতির সমাপনী বক্তব্য এবং প্রধান অতিথির দোয়ার মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়।
রিপোর্টার : তৌহিদ তাবরিজি
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
চট্টগ্রাম
বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা ও রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোতে যুগোপযোগী পরিবর্তন আনার লক্ষ্যে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন সম্প্রতি কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রস্তাব উত্থাপন করেছে। এই প্রস্তাবগুলো শুধু একটি রাজনৈতিক রূপরেখা নয়, বরং দেশের ভবিষ্যৎ গণতান্ত্রিক সংস্কৃতি, প্রশাসনিক স্বচ্ছতা এবং জনগণের ক্ষমতায়নের দিকনির্দেশনা দেয়।
যেখানে প্রতিটি প্রস্তাবের ব্যাখ্যা, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য প্রভাব তুলে ধরা হয়েছে:
১. প্রধানমন্ত্রী দুইবার
ব্যাখ্যা:
একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদের জন্য প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
ক্ষমতার একচেটিয়া ব্যবহার রোধ
গণতন্ত্রকে টেকসই ও বিকেন্দ্রীকৃত করা
নতুন নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টি
২. প্রধানমন্ত্রী দলীয় প্রধান হতে পারবেন না
ব্যাখ্যা:
প্রধানমন্ত্রী কোনো রাজনৈতিক দলের প্রধান পদে থাকতে পারবেন না।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
সরকার ও দলের মধ্যে স্বচ্ছ সীমারেখা
প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিশ্চিত করা
দলীয় প্রভাবমুক্ত কার্যক্রম পরিচালনা সহজ হবে
৩. প্রধানমন্ত্রী সংসদ নেতা হতে পারবেন না
ব্যাখ্যা:
প্রধানমন্ত্রী একইসাথে সংসদের নেতা (Leader of the House) হতে পারবেন না।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
সংসদের কার্যক্রমে প্রধানমন্ত্রীর একচেটিয়া প্রভাব কমবে
সংসদ আরও কার্যকর ও স্বাধীন হবে
৪. সংখ্যানুপাতিক উচ্চকক্ষ
ব্যাখ্যা:
একটি উচ্চকক্ষ (Upper House) গঠন করা হবে যেখানে প্রতিনিধিত্ব সংখ্যানুপাতিকভাবে নির্ধারিত হবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
সংখ্যালঘু ও বিভিন্ন অঞ্চলের মত প্রকাশের সুযোগ
দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ ব্যবস্থায় ভারসাম্য সৃষ্টি
৫. জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল (এনসিসি)
ব্যাখ্যা:
একটি স্বাধীন সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান গঠন করা হবে, যা সংবিধান রক্ষা, ব্যাখ্যা এবং সংস্কারের দায়িত্ব পালন করবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
সংবিধানের নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধান
সংবিধানকে রাজনৈতিক প্রভাব থেকে মুক্ত রাখা
৬. এনসিসি-এর মাধ্যমে সাংবিধানিক নিয়োগ
ব্যাখ্যা:
সাংবিধানিক পদে (যেমন নির্বাচন কমিশনার, মহাহিসাব নিরীক্ষক ইত্যাদি) নিয়োগ হবে এনসিসির মাধ্যমে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
যোগ্যতা ও স্বচ্ছতার ভিত্তিতে নিয়োগ
রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্ব হ্রাস
৭. নারী আসনে সরাসরি নির্বাচন
ব্যাখ্যা:
নারী সংরক্ষিত আসনে মনোনয়ন নয়, সরাসরি জনভোটের মাধ্যমে প্রতিনিধি নির্বাচন করা হবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
নারীর প্রকৃত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত
জনগণের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি
৮. সংবিধান সংশোধনে গণভোট
ব্যাখ্যা:
সংবিধান সংশোধনের ক্ষেত্রে সংসদের পাশাপাশি গণভোটের মাধ্যমে জনগণের মতামত নেওয়া হবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
জনগণের সরাসরি অংশগ্রহণ
জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ
৯. জ্যেষ্ঠতম বিচারপতি প্রধান বিচারপতি
ব্যাখ্যা:
সর্বোচ্চ আদালতের জ্যেষ্ঠতম বিচারপতিকেই প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ দিতে হবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
নিয়োগে স্বচ্ছতা ও ন্যায্যতা
বিচার বিভাগে রাজনৈতিক প্রভাব হ্রাস
১০. রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে বহুত্ববাদ
ব্যাখ্যা:
রাষ্ট্রের নীতিমালায় রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক মতভেদসহ সকল মতের সহাবস্থানের স্বীকৃতি থাকবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
সামাজিক সম্প্রীতি ও সহনশীলতা বৃদ্ধি
ধর্মনিরপেক্ষতা ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের স্বীকৃতি
১১. প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা হ্রাস
ব্যাখ্যা:
প্রধানমন্ত্রীর একক ক্ষমতা হ্রাস করে ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ করা হবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
স্বেচ্ছাচারিতা রোধ
মন্ত্রিপরিষদের সম্মিলিত সিদ্ধান্তকে গুরুত্ব
১২. নির্বাচনের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা:
বর্তমান নির্বাচনী পদ্ধতি পুনঃবিবেচনা ও সংস্কার করা হবে, সম্ভবত সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির দিকে ঝোঁক থাকবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
প্রতিনিধিত্বের ভারসাম্য
ছোট দল ও সংখ্যালঘুদেরও সুযোগ
১৩. সংস্কার বাস্তবায়নের পদ্ধতি
ব্যাখ্যা:
সব প্রস্তাব বাস্তবায়নের জন্য একটি নির্ধারিত রোডম্যাপ ও পদ্ধতি থাকবে।
উদ্দেশ্য ও প্রভাব:
কাঠামোগত রূপান্তর পরিকল্পিত ও সময়োপযোগী হবে
দীর্ঘমেয়াদী সংস্কার কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন।
কমিশনের এই প্রস্তাবসমূহ শুধু একটি দলীয় বা রাজনৈতিক বিষয় নয়, বরং বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে গণতান্ত্রিক, ন্যায্য এবং যুগোপযোগী করে তোলার প্রয়াস। জনগণের স্বার্থ, নারীর ক্ষমতায়ন, সংবিধানিক স্বচ্ছতা এবং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা – এই চারটি মূল স্তম্ভকে সামনে রেখেই এগিয়েছে প্রস্তাবগুলো।
এই প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়ন হলে একটি অংশগ্রহণমূলক, বিকেন্দ্রীকৃত ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ার ভিত্তি সুদৃঢ় হবে। এখন প্রয়োজন জনমত, রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং সচেতন নাগরিক অংশগ্রহণ।
রিপোর্টার : সাদ্দাম হোসেন রাজু
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
ঢাকা
ঢাকা, ২৪ মে ২০২৫: আজ শনিবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের সভা শেষে উপদেষ্টা পরিষদের এক অনির্ধারিত বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উপর অর্পিত তিনটি প্রধান দায়িত্ব (নির্বাচন, সংস্কার ও বিচার) বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে রাজধানীর শের-ই-বাংলা নগর এলাকায় পরিকল্পনা কমিশনে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব দায়িত্ব পালনে বিভিন্ন সময় নানা ধরনের অযৌক্তিক দাবি দাওয়া, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও এখতিয়ার বহির্ভূত বক্তব্য এবং কর্মসূচি দিয়ে যেভাবে স্বাভাবিক কাজের পরিবেশ বাধাগ্রস্ত করে তোলা হচ্ছে এবং জনমনে সংশয় ও সন্দেহ সৃষ্টি করা হচ্ছে, তা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয় বৈঠকে।
দেশকে স্থিতিশীল রাখতে, নির্বাচন, বিচার ও সংস্কার কাজ এগিয়ে নিতে এবং চিরতরে এদেশে স্বৈরাচারের আগমন প্রতিহত করতে বৃহত্তর ঐক্য প্রয়োজন বলে মনে করে উপদেষ্টা পরিষদ।
এ বিষয়ে অন্তর্বর্তী সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর বক্তব্য শুনবে এবং সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করবে।
শত বাধার মাঝেও গোষ্ঠীস্বার্থকে উপেক্ষা করে অন্তর্বর্তী সরকার তার উপর অর্পিত দায়িত্ব পালন করে যাচ্ছে। যদি পরাজিত শক্তির ইন্ধনে এবং বিদেশি ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে সরকারের উপর আরোপিত দায়িত্ব পালনকে অসম্ভব করে তোলা হয়, তবে সরকার সকল কারণ জনসমক্ষে উত্থাপন করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার জুলাই অভ্যুত্থানের জনপ্রত্যাশাকে ধারণ করে। কিন্তু সরকারের স্বকীয়তা, সংস্কার উদ্যোগ, বিচার প্রক্রিয়া, সুষ্ঠু নির্বাচন ও স্বাভাবিক কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করে এমন কর্মকাণ্ড অর্পিত দায়িত্ব পালন করাকে অসম্ভব করে তুললে সরকার জনগণকে সঙ্গে নিয়ে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।
PR পদ্ধতিতে নির্বাচন: নিয়ম, উপকারিতা ও সংসদ গঠনের প্রক্রিয়া।
লেখক : মুহাম্মদ সাদ্দাম হোসেন
সমাজসেবক, সংবাদিক।
বাংলাদেশের বর্তমান নির্বাচন ব্যবস্থা হলো ‘First Past The Post’ (FPTP), যেখানে যে প্রার্থী সর্বাধিক ভোট পান, তিনিই জয়ী হন। এই ব্যবস্থায় অনেক সময় দেখা যায়, কোনো প্রার্থী মোট ভোটের ৩০-৩৫ শতাংশ পেয়ে নির্বাচিত হচ্ছেন, বাকিরা "হারিয়ে যাওয়া" ভোট হিসেবে গণ্য হচ্ছে। এরই বিকল্প হিসেবে বিশ্বব্যাপী জনপ্রিয়তা পাচ্ছে PR বা Proportional Representation (সমানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব) পদ্ধতি। এই ব্লগে আমরা জানব PR পদ্ধতি কী, কীভাবে কাজ করে, সংসদ গঠন কীভাবে হয় এবং এর উপকারিতা ও চ্যালেঞ্জ কী কী।
PR পদ্ধতি কী?
PR পদ্ধতি এমন একটি নির্বাচন ব্যবস্থা যেখানে রাজনৈতিক দলসমূহ জাতীয়ভাবে যত শতাংশ ভোট পায়, তত শতাংশ আসন তারা সংসদে পায়। এতে করে জনগণের প্রকৃত ভোটের প্রতিফলন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, যদি কোনো দল ২৫% ভোট পায়, তাহলে সে দল সংসদের ২৫% আসনের প্রতিনিধিত্ব করবে।
PR পদ্ধতিতে নির্বাচন প্রক্রিয়া।
১. ভোট প্রদান: ভোটাররা সাধারণত দলের প্রতীকে ভোট দেন।
২. পার্টি লিস্ট জমা: প্রতিটি দল নির্বাচনের আগে একটি তালিকা জমা দেয় যেখানে তাদের প্রার্থী নাম থাকে।
৩. ভোট গণনা: দেশের মোট ভোট গণনা করা হয়।
৪. আসন বণ্টন: দলগুলোকে প্রাপ্ত ভোটের অনুপাতে আসন দেওয়া হয়।
৫. তালিকা থেকে মনোনয়ন: দলগুলো তাদের তালিকা অনুযায়ী প্রার্থীদের সংসদে পাঠায়।
উদাহরণ:
মোট ১০০ ভোটের মধ্যে —
দল A পেয়েছে ৪০ ভোট → সংসদের ৪০% আসন
দল B পেয়েছে ৩৫ ভোট → ৩৫% আসন
দল C পেয়েছে ২৫ ভোট → ২৫% আসন
সংসদ গঠনের পদ্ধতি
PR পদ্ধতিতে সংসদ গঠন হয় মোট প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে। বাংলাদেশে যদি এটি কার্যকর হয়, সংসদ গঠনের পদ্ধতি হতে পারে:
৩০০ আসনের মধ্যে আনুপাতিক বণ্টন: দলগুলোকে প্রাপ্ত ভোটের ভিত্তিতে আসন বরাদ্দ।
পার্টি লিস্ট অনুযায়ী এমপি নির্বাচন: দল আগে থেকেই তালিকা জমা দেয়, এবং প্রাপ্ত আসনের ভিত্তিতে সেখান থেকে সদস্য মনোনয়ন করে।
মিশ্র পদ্ধতি (Mixed-member Proportional): কিছু আসন সরাসরি ভোটে, বাকিগুলো PR পদ্ধতিতে নির্ধারণ করা হতে পারে।
মন্ত্রণালয় বণ্টনের রীতি
PR পদ্ধতিতে সাধারণত জোট সরকার গঠিত হয়, যেখানে একাধিক দল সম্মিলিতভাবে সরকার চালায়। এ ক্ষেত্রে মন্ত্রণালয় বণ্টনের ধাপগুলো হলো:
সংখ্যাগরিষ্ঠতা যাচাই: কোনো দল এককভাবে সংখ্যাগরিষ্ঠ না হলে, জোট গঠন করে সরকার চালানো হয়।
আলোচনা ও সমঝোতা: প্রতিটি দলের শক্তি ও আসনের ভিত্তিতে মন্ত্রণালয় বণ্টন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকা: জোট প্রধান দলের নেতা প্রধানমন্ত্রী হন, এবং তিনি জোটের অংশীদারদের সঙ্গে আলোচনা করে মন্ত্রী নির্বাচন করেন।
আস্থা ভোট: সরকার গঠনের পর সংসদে আস্থা ভোটের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন প্রমাণ করতে হয়।
PR পদ্ধতির উপকারিতা
✅ ন্যায্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রতিনিধিত্ব: সব দলের ও জনগণের ভোটের প্রতিফলন ঘটে।
✅ ছোট দলগুলোর অংশগ্রহণ নিশ্চিত: সীমিত সংখ্যক ভোট পেলেও সংসদে জায়গা পায়।
✅ ভোটারের সন্তুষ্টি বাড়ে: কোনো ভোটই “নষ্ট” হয় না।
✅ জোট-ভিত্তিক রাজনীতি: সমঝোতা ও আলোচনার ভিত্তিতে সরকার চলে।
✅ প্রগতিশীল নীতিনির্ধারণ: বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি সংসদে প্রতিফলিত হয়।
সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ
আইনি ও সাংবিধানিক পরিবর্তন: সংবিধানে সংশোধন প্রয়োজন হতে পারে।
বড় দলগুলোর আপত্তি: তারা ক্ষমতা ভাগাভাগিতে অনাগ্রহী হতে পারে।
জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি: নতুন পদ্ধতি নিয়ে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে।
দলীয় তালিকায় স্বচ্ছতা: দলীয় নেতৃত্ব যদি সৎ না হয়, তাহলে যোগ্য ব্যক্তিরা বঞ্চিত হতে পারেন।
বাংলাদেশের গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী করতে হলে এমন একটি পদ্ধতির প্রয়োজন যেখানে প্রতিটি ভোটের মূল্য থাকে, এবং সব দল ও শ্রেণির প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত হয়। Proportional Representation (PR) পদ্ধতি সে পথেই একটি আধুনিক ও সময়োপযোগী বিকল্প। এটি শুধু ন্যায্যতা আনে না, বরং জনগণের আস্থা এবং অংশগ্রহণও বাড়ায়। সময় এসেছে এই পদ্ধতি নিয়ে জনমত গঠনের, এবং একটি গণতান্ত্রিক, অংশগ্রহণমূলক রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তোলার।
আপনার মতামত দিন
আপনি কি মনে করেন বাংলাদেশে PR পদ্ধতি বাস্তবায়ন করা উচিত? নিচে মন্তব্য করে জানান।
করণীয়ই বা কী?
লেখক : সাদ্দাম হোসেন
ভারত ও পাকিস্তান—দুই প্রতিবেশী পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র। দুই দেশের মধ্যে বিরোধ, বিশেষ করে কাশ্মীর ইস্যুকে কেন্দ্র করে বহুবার উত্তেজনা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে। কিন্তু এবারের উত্তেজনা অতীতের চেয়ে অনেক বেশি জটিল ও বিপজ্জনক। কারণ এইবার শুধু ভারত-পাকিস্তানই নয়, বরং চীনও সরাসরি জড়িয়ে পড়তে পারে, যার পরিণতিতে সমগ্র দক্ষিণ এশিয়া অস্থিতিশীল হয়ে উঠতে পারে।
এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মাঝখানে বাংলাদেশ কেবল দর্শক নয়—বরং সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখোমুখি হতে পারে।
কেন বাংলাদেশ সবচেয়ে বেশি ক্ষতির ঝুঁকিতে?
১. ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা
বাংলাদেশের ভৌগোলিক অবস্থান এমন এক জায়গায়, যেখানে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল বা “সেভেন সিস্টার্স” একদিকে, আর অন্যদিকে চীন, মিয়ানমার ও বঙ্গোপসাগর। যদি চীন এই সুযোগে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চল দখলে আনার চেষ্টা করে, তাহলে বাংলাদেশের রংপুর বিভাগ সরাসরি সংঘাতের ছায়ায় চলে আসবে।
২. পার্বত্য চট্টগ্রামের অস্থিতিশীলতা
সন্তু লারমার ভারত সফর এবং বর্তমান উত্তেজনা অনেকের মনে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে যে পার্বত্য চট্টগ্রামে নতুন করে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন জোরদার হতে পারে। এতে দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়বে।
৩. রোহিঙ্গা সংকট আরও ঘনীভূত
বর্তমানে বাংলাদেশে প্রায় ১৫-১৬ লক্ষ রোহিঙ্গা অবস্থান করছে। গত এক বছরে আরও এক লক্ষ রোহিঙ্গার অনুপ্রবেশ ঘটেছে বলে তথ্য রয়েছে। যুদ্ধকালীন শূন্যতায় এই সংখ্যাটি বাড়তেই পারে। ফলাফল—কক্সবাজার ও পার্বত্য চট্টগ্রামের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা কাঠামো ভেঙে পড়বে।
৪. আমদানি নির্ভর অর্থনীতি ও সম্ভাব্য বিপর্যয়
বাংলাদেশ এখনো জ্বালানি, খাদ্য ও শিল্প কাঁচামালের ক্ষেত্রে আমদানি নির্ভর। যুদ্ধ শুরু হলে ভারত ও চীনের সঙ্গে যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হতে পারে। এতে:
জ্বালানি তেলের দাম আকাশছোঁয়া হতে পারে,
নিত্যপণ্যের সরবরাহ কমে যেতে পারে,
ক্ষুদ্র উদ্যোক্তা ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ হওয়ার ঝুঁকি বাড়বে।
৫. মিডিয়া প্রোপাগান্ডা ও বিভ্রান্তি
ভারতের মিডিয়া বহুদিন ধরেই "ডিজইনফরমেশন কুইনডম" হিসেবে পরিচিত। তারা যদি যুদ্ধকালীন সময়ে প্রোপাগান্ডা চালায়, তাহলে বাংলাদেশে বিভ্রান্তি, উত্তেজনা ও জনমনে ভীতি তৈরি হতে পারে।
বাংলাদেশের করণীয় কী?
১. কূটনৈতিক ভারসাম্য রক্ষা
বাংলাদেশকে কোনো পক্ষ নেয়ার বদলে শান্তিপূর্ণ অবস্থান বজায় রাখতে হবে। আন্তর্জাতিক মহলে কূটনৈতিক সংলাপ বাড়ানো জরুরি।
২. সীমান্ত নিরাপত্তা জোরদার
রংপুর, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার অঞ্চলে সীমান্ত টহল বাড়াতে হবে। সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশকারীদের নজরদারির আওতায় আনতে হবে।
৩. খাদ্য ও জ্বালানি মজুত পরিকল্পনা
সরকারি পর্যায়ে তেল, গ্যাস ও খাদ্যপণ্য আমদানির বিকল্প উৎস নিশ্চিত করতে হবে। অভ্যন্তরীণ উৎপাদন বাড়ানোর উপর জোর দিতে হবে।
৪. তথ্য ও মিডিয়া নিয়ন্ত্রণ
প্রোপাগান্ডা ঠেকাতে স্বচ্ছ তথ্য সরবরাহ ও গণমাধ্যমের দায়িত্বশীল ভূমিকা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। জনগণকে গুজবের বিরুদ্ধে সচেতন করতে হবে।
৫. রোহিঙ্গা ইস্যুতে কঠোর কূটনৈতিক চাপ
মিয়ানমারকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাধ্য করতে আন্তর্জাতিক চাপ জোরদার করতে হবে। অন্যথায় নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক ভারসাম্য ভেঙে পড়বে।
ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের আঁচ শুধু সীমান্তে থেমে থাকবে না—এর উত্তাপ ছড়িয়ে পড়বে পুরো দক্ষিণ এশিয়ায়। বাংলাদেশ সরাসরি যুদ্ধের অংশ না হলেও, এতে ক্ষতির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি। তাই এখনই সময়—সতর্ক হওয়ার, প্রস্তুত থাকার এবং দেশের সার্বিক নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় সক্রিয় পদক্ষেপ গ্রহণের।
আপনার মতামত আমাদের জানাতে ভুলবেন না। আপনি কি মনে করেন, বাংলাদেশ এই পরিস্থিতি সামাল দিতে প্রস্তুত? মন্তব্য করে জানান!
ব্লগটি শেয়ার করুন, সচেতনতা ছড়ান।
ভারতের 'অপারেশন সিন্ধুর': পাকিস্তানে মিসাইল হামলা, তিনটি স্থানে আঘাত
ঢাকা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার উত্তেজনা নতুন উচ্চতায় পৌঁছেছে। মঙ্গলবার ভোরে ভারতীয় সশস্ত্র বাহিনী “অপারেশন সিন্ধুর” নামক একটি সামরিক অভিযান চালিয়ে পাকিস্তান ও পাকিস্তান-অধিকৃত কাশ্মীরের নয়টি স্থানে মিসাইল হামলা চালিয়েছে। ভারতের দাবি, এইসব স্থানে সন্ত্রাসী অবকাঠামো ছিল, যেখান থেকে ভারতবিরোধী হামলা পরিচালিত হচ্ছিল।
পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ইন্টার সার্ভিস পাবলিক রিলেশনস (ISPR) মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল আহমেদ শরীফ চৌধুরী জানান, হামলার লক্ষ্য ছিল মুজাফফরাবাদ, কোটলি (পাক-অধিকৃত কাশ্মীরে) ও বাহাওয়ালপুর। এই হামলায় একজন শিশু নিহত এবং অন্তত দুইজন আহত হয়েছে বলে পাকিস্তান দাবি করেছে।
ভারতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, "এই অভিযান ছিল সুনির্দিষ্ট, পরিমিত এবং উত্তেজনা বৃদ্ধিহীন। কোনো পাকিস্তানি সামরিক স্থাপনাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়নি।"
এদিকে পাকিস্তান ঘোষণা দিয়েছে, “এই কাপুরুষোচিত হামলার জবাব আমরা উপযুক্ত সময় ও স্থানে দেব।” পাকিস্তানের সব যুদ্ধবিমান এখন আকাশে টহলে রয়েছে বলে জানা গেছে।
এই ঘটনার ফলে দক্ষিণ এশিয়ায় আবারও যুদ্ধাবস্থা সৃষ্টি হওয়ার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় পরিস্থিতির উপর নজর রাখছে।
সাদ্দাম হোসেন
ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা
ঢাকা।
ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ, ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে ‘মার্চ ফর ঢাকা’ ঘোষণা
ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শনিবার রাজধানীতে গণমিছিলপূর্ব সমাবেশ করেছে। সমাবেশে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, "ভারতে মুসলিমদের নির্মূলের অপচেষ্টা চলছে। ওয়াকফ আইন পরিবর্তন করে মুসলিমদের জমি, মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থান দখল করা হচ্ছে।" তিনি মোদী সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, মুসলমানরা জাগ্রত হলে মোদী সরকারের মসনদ টিকে থাকবে না।
তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও ওআইসিকে ভারতের মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "নাস্তিকদের পদায়ন করে সুখে থাকা যাবে না। নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নয়তো জনগণ সমর্থন প্রত্যাহার করবে।"
মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, "আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন। সংস্কার ছাড়া কোনো গুন্ডামি মার্কা নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।" তিনি দ্রুতই ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে 'মার্চ ফর ঢাকা' কর্মসূচি ঘোষণা করার ঘোষণা দেন।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।
বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই
২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে উঠেছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন ছিল ‘বৈষম্যের এক জ্বলন্ত উদাহরণ’।
নির্বাচনের দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। দলটি এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ দাবি করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়।
এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটি আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের শুনানি পেছানো হচ্ছে বারবার, যা দলটির মতে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রের আইন বিভাগ কি তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে?
চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী যুব আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজুম মোল্লা বলেন, “সাংগঠনিক ব্যানারে বৈষম্য দূর করার আন্দোলন করেছি রাজপথে থেকে, পুনরায় বৈষম্য দেখার জন্য নয়।” তিনি আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানিতে সম্ভাব্য বৈষম্য এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং আদালতের স্বচ্ছতা এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা আরও হ্রাস পেতে পারে।
বরিশাল শহরের সাধারণ মানুষও এ নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের বিশ্বাসে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে।
আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।
দেখতে থাকুন 'ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা' — সত্যের সন্ধানে, আমরা সবসময় আপনার পাশে।
-------------------- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ আজ ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন—
“মুক্তি, সাম্য, সুশাসন ও সমৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলের মানুষ ৪৭ ও ৭১-এ দুই দফা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে। ৯০-এ স্বৈরাচার উৎখাত করেছে। তারপরেও দেশে হাসিনার মতো স্বৈরাচার তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভঙ্গুরতার কারণে। ফলে আগামীর বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচারের পথ রুদ্ধ করতে সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারকে বাধাগ্রস্থ করে এমন কোন কিছুই দেশবাসীর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব না।”
তিনি আরও বলেন—
“হাসিনার মতো স্বৈরাচারের সূচনাও হয়েছিল একটি নির্বাচনের মাধ্যমে। পতিত ফ্যাসিবাদও তিনটা নির্বাচন করেছে। তারপরেও জাতিকে ২৪-এ রক্ত উৎসর্গ করতে হয়েছে। এর অর্থ হলো, নির্বাচনই সমাধান না। বরং সংস্কারহীন নির্বাচন আরেকটি স্বৈরচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেবে। সেকারণে ইসলামী আন্দোলন পরিস্কার করে বারংবার দাবী জানাচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”
অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন—
“সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে তাতে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক চাপে সংস্কারকে অসম্পন্ন রেখে নির্বাচন আয়োজন করলে শতশত শহীদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করা হবে। অভ্যুত্থানে আহতরা এখনো হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।”
তিনি আরও বলেন—
“এই সরকার একটি অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার বহন করছে। ফলে সেই অভ্যুত্থানের দাবী ও চেতনা বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। আজকে যারা সংস্কারকে গৌন করে নির্বাচনের জিগির তুলেছে; ২৪-এর অভ্যুত্থানে তাদের অবদান স্বীকার করার পরেও বলতে হবে, ২৪-এ সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক শক্তির অবদানই ছিল প্রধান ও মূখ্য। ফলে এখন ক্ষমতাকেন্দ্রীক দলগুলোর চাপে অভ্যুত্থানের প্রধান ধারার চিন্তা ও চেতনাকে জলাঞ্জলি দিলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই নির্বাচন নয় বরং সংস্কারকে মূখ্য করেই সরকারকে তাদের রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।”
নির্বাচন নিয়ে চাপ তৈরি করা দলসমূহের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন—
“আপনার দলের নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করে দেখুন। তাতেই দেখা যাবে রাজনৈতিক হানাহানি ও সংহিংসতা কি তীব্র ও হিংস্র আকারে এখনো বিরাজমান। এই বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে দেশকে আবারো সহিংস ও হিংস্র রাজনীতির মধ্যে ঠেলে দেয়ার জন্য ২৪-এ ছাত্র জনতা রক্ত দেয় নাই।”
#ইসলামীআন্দোলনবাংলাদেশ
#নির্বাচন২০২৫
#রাজনৈতিকসংস্কার
#গণতন্ত্র
#অভ্যুত্থান
#সংবাদ
দ্ব্যর্থক বক্তব্যে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৫
প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা, ঢাকা:
রাজনীতির মাঠে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিএনপি নেতাদের বক্তব্য নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষত, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ ও মির্জা আব্বাসের সাম্প্রতিক দুটি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে।
২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বক্তব্যে বলেছিলেন,
“একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতে এ দেশে একটা নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে।”
কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল তিনিই আবার বলেন,
“কেউ যদি এটাকে বিপ্লব বলতে চায় তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করব। এটা কোনো সামাজিক বিপ্লব নয়।”
এ ধরনের ভিন্নমুখী বক্তব্যে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা।
অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বলেছিলেন,
“সংস্কারের কথা বলছেন। ঘটটুঁ লেগে করেন। আমাদের কোনো আপত্তিও নাই।”
কিন্তু ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ তিনি বলেন,
“ওদের কোনো সংস্কার আমরা সহজে মেনে নেব না। সংস্কার যদি করেন, আমরা কারেকশন করব।”
বক্তব্যে এই ধরনের পরিবর্তন জনগণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত:
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য হতে হবে পরিস্কার, দৃঢ় ও ধারাবাহিক। অন্যথায় সাধারণ জনগণ দলের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করে।
জনমতের প্রতিফলন:
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ নিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনা। অনেকেই বলছেন, "নিজেরা স্থির হতে না পারলে জনগণকে কীভাবে নেতৃত্ব দেবেন?"
সামনের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই ধরনের বিবৃতি দলটির গ্রহণযোগ্যতা এবং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছে। এখন দেখার বিষয়, বিএনপি নেতৃত্ব কীভাবে এই দ্ব্যর্থক বার্তাগুলো পরিষ্কার করবে।
নববর্ষের আনন্দে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত
স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | ১৪ এপ্রিল ২০২৫
আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩২। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চলছে আনন্দ-উৎসবের বর্ণিল আয়োজন। আর তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।
এই বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল – ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক দৃঢ় বার্তা বহন করে।
সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ঢাক-ঢোল, বাউল সুর, মুখোশ, পুতুল, বিশালাকৃতির পশুপাখির প্রতিকৃতি আর লোকজ শিল্পে সাজানো ছিল পুরো এলাকা। এই শোভাযাত্রা যেন হয়ে ওঠে একটি চলমান ক্যানভাস—যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি, প্রতিবাদ ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।
শোভাযাত্রার রুট:
শোভাযাত্রাটি শুরু হয় চারুকলা অনুষদ থেকে। এরপর এটি শাহবাগ মোড় হয়ে ঘুরে যায় টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর এবং বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা ধরে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে আসে।
এই পথে হাজারো মানুষ উল্লাসে অংশ নেন, কেউ দর্শক হিসেবে, কেউবা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে। কেউ মুখোশ পরে, কেউ রঙিন পোশাক গায়ে দিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন আনন্দময় এই যাত্রার মাধ্যমে।
শিল্প ও বার্তা—একসাথে:
প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির প্রতীক sculpture ও মুখোশ। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তায় ছিল—
অসাম্প্রদায়িকতা
মানবতা
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য
সংস্কৃতির শক্তিতে সমাজ পরিবর্তনের ডাক
চারুকলা অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা শুধু আনন্দ করতেই এই শোভাযাত্রায় অংশ নিই না, বরং প্রতিবাদ করি—শিল্পের ভাষায়, চিত্রের ভাষায়। এবারের থিম খুব শক্তিশালী। এটা বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।”
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পরিবেশনা:
শোভাযাত্রার আগে ও পরে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার।
ছায়ানট আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী গান ও আবৃত্তির
ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রামীণ পরিবেশনার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা
পোশাকে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি, ফুলের মালা, আলপনা ইত্যাদি
ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিকতা:
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে এই আনন্দ শোভাযাত্রা পেয়েছে ইউনেস্কোর "Intangible Cultural Heritage" স্বীকৃতি। যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এই উৎসবের তাৎপর্য বাড়িয়ে তোলে।
নববর্ষ মানেই কেবল দিন বদলের উৎসব নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবিকতা, সহাবস্থান ও প্রতিবাদী চেতনার নতুন সূচনা।
আজকের ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য সেই চেতনার প্রতিফলন। আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য রূপ।
‘মার্চ ফর গাজা’: সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ঢাকাবাসীর জনসমুদ্র, ফিলিস্তিনের পক্ষে ঐক্যবদ্ধ কণ্ঠ
ঢাকা, ১২ এপ্রিল ২০২৫, শনিবার
আজ ঢাকার ঐতিহাসিক সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে অনুষ্ঠিত হলো ‘মার্চ ফর গাজা’ শীর্ষক বিশাল সমাবেশ ও পদযাত্রা কর্মসূচি, যেখানে হাজার হাজার মানুষ একত্রিত হয়ে ফিলিস্তিনের পক্ষে সংহতি প্রকাশ করেন।
সমাবেশের মূল বার্তা:
“গাজার প্রতি ভালোবাসা, মানবতার পক্ষে আমাদের অবস্থান”—এই মূল বার্তা সামনে রেখে মানুষ সারিবদ্ধভাবে ভোর থেকেই সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে জমায়েত হতে থাকেন। সকাল ১০টা নাগাদ পুরো উদ্যানে ঢাকার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা সাধারণ মানুষ, ছাত্র-ছাত্রী, ধর্মীয় ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, সাংবাদিক, চিকিৎসক, পেশাজীবী, খেলোয়াড় ও মানবাধিকার কর্মীরা জড়ো হন।
আয়োজক ও অংশগ্রহণকারী:
এই কর্মসূচির আয়োজন করে ‘প্যালেস্টাইন সলিডারিটি মুভমেন্ট বাংলাদেশ’, যেখানে শিক্ষার্থী, পেশাজীবী, রাজনীতিক, ধর্মীয় নেতা, খেলোয়াড় এবং সাধারণ মানুষ সবাই স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নেন।
বিশেষভাবে উপস্থিত ছিলেন—
ইসলামি বক্তা মিজানুর রহমান আজহারি
শায়খ আহমাদুল্লাহ
সাবেক ক্রিকেট অধিনায়ক মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ
সাংবাদিক মাহমুদুর রহমান
বিএনপির নেতৃবৃন্দ ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা
মানুষের অনুভূতি:
বিভিন্ন অংশগ্রহণকারীদের সঙ্গে কথা বললে বোঝা যায়, এই কর্মসূচি শুধু ফিলিস্তিনের প্রতি সমর্থন নয়, বরং বিশ্ব মানবতার পক্ষে এক জোরালো অবস্থান। একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থী বলেন,
“আমরা আজ শুধু গাজার মানুষের জন্য কাঁদতে আসিনি, তাদের সঙ্গে দাঁড়াতে এসেছি। ইতিহাসের ঠিক পথে আমরা থাকবো—এই আমাদের অঙ্গীকার।”
নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা:
সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল কঠোর কিন্তু শান্তিপূর্ণ। বিপুল সংখ্যক পুলিশ মোতায়েন করা হয়, ট্রাফিক ছিল নিয়ন্ত্রিত, এবং কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলার খবর পাওয়া যায়নি।
এই ‘মার্চ ফর গাজা’ ছিল মানবিকতা ও ন্যায়ের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের এক সাহসী উচ্চারণ। এটি প্রমাণ করে, অন্যায় যেখানেই হোক, প্রতিবাদ গড়ে ওঠে সীমান্ত পেরিয়ে, হৃদয়ের বন্ধনে।