শনিবার, ২৯ মার্চ, ২০২৫

শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো মিয়ানমার, বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর আতঙ্ক

 


শক্তিশালী ভূমিকম্পে কাঁপলো মিয়ানমার, 

বাংলাদেশসহ প্রতিবেশী দেশগুলোর আতঙ্ক

মিয়ানমারে গতকাল (২৮ মার্চ ২০২৫) ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে, যা বাংলাদেশ, ভারত, থাইল্যান্ড ও চীনেও অনুভূত হয়েছে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (USGS) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় দুপুর ১২:৫০ মিনিটে মিয়ানমারের সাগাইং শহরের ১৬ কিলোমিটার উত্তর-পশ্চিমে, ভূ-পৃষ্ঠ থেকে ১০ কিলোমিটার গভীরে এ ভূমিকম্পের উৎপত্তি হয়।

বাংলাদেশে তীব্র কম্পন অনুভূত

ভূমিকম্পের কম্পন বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকা, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাজশাহী, খুলনা এবং সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে স্পষ্টভাবে অনুভূত হয়েছে। চট্টগ্রাম শহরে দুপুর ১২:২০ মিনিটের দিকে কম্পন শুরু হলে মানুষ আতঙ্কে ঘরবাড়ি ও অফিস থেকে বেরিয়ে আসে।

ঢাকাতেও বহুতল ভবনগুলো কেঁপে ওঠে, বিশেষ করে গুলশান, বনানী, মতিঝিল ও ধানমন্ডি এলাকায় মানুষ আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তবে, এখন পর্যন্ত বাংলাদেশে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি।

প্রতিবেশী দেশগুলোর পরিস্থিতি

থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককেও ভূমিকম্পের কম্পন অনুভূত হয়েছে, যেখানে উঁচু ভবনের বাসিন্দারা দ্রুত নিচে নেমে আসেন। চীনের ইউনান প্রদেশেও কম্পন টের পাওয়া গেছে, তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও জানা যায়নি।

মিয়ানমারে ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা

মিয়ানমারে ভূমিকম্পের ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে, বিশেষ করে গৃহযুদ্ধকবলিত অঞ্চলে। অনেক এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং জরুরি উদ্ধারকাজ চলছে।

বিশেষজ্ঞদের সতর্কবার্তা

ভূমিকম্প বিশেষজ্ঞরা দীর্ঘদিন ধরে সতর্ক করে আসছেন যে, চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চল একটি ভূমিকম্প-প্রবণ এলাকা। ভারতীয় ও বার্মা প্লেটের সংযোগস্থলে প্রচুর শক্তি সঞ্চিত হচ্ছে, যা ভবিষ্যতে আরও বড় বিপর্যয় ঘটাতে পারে।

সতর্কতা ও করণীয়

সরকারের পক্ষ থেকে জনগণকে ভূমিকম্পের সময় নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা ভূমিকম্প-সহনশীল ভবন নির্মাণ ও সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন।

সাম্প্রতিক এই ভূমিকম্প আবারও মনে করিয়ে দিল যে, আমাদের প্রস্তুতি নেওয়ার এখনই সময়। ভবিষ্যতের জন্য আমরা কতটা প্রস্তুত, সেটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।