বুধবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

দ্ব্যর্থক বক্তব্যে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন।


দ্ব্যর্থক বক্তব্যে বিএনপি নেতাদের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন

তারিখ: ১৬ এপ্রিল, ২০২৫

প্রতিবেদক: স্টাফ রিপোর্টার, ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা, ঢাকা:

রাজনীতির মাঠে চলমান উত্তেজনার মধ্যে বিএনপি নেতাদের  বক্তব্য নিয়ে জনমনে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। বিশেষত, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদমির্জা আব্বাসের সাম্প্রতিক দুটি ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে রাজনৈতিক অঙ্গনে


২০২৪ সালের ১১ আগস্ট সালাহউদ্দিন আহমেদ এক বক্তব্যে বলেছিলেন,


একবিংশ শতাব্দীর পৃথিবীতেদেশে একটা নজিরবিহীন ছাত্র-জনতার বিপ্লব হয়েছে।”


কিন্তু ২০২৫ সালের ১৩ এপ্রিল তিনিই আবার বলেন,


কেউ যদি এটাকে বিপ্লব বলতে চায় তাহলে আমি দুঃখ প্রকাশ করবএটা কোনো সামাজিক বিপ্লব নয়।”


ধরনের ভিন্নমুখী বক্তব্যে তার রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বিশ্লেষকরা


অন্যদিকে, বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাস ২০২৪ সালের ২৯ ডিসেম্বর বলেছিলেন,


 “সংস্কারের কথা বলছেনঘটটুঁ লেগে করেনআমাদের কোনো আপত্তিও নাই।”


কিন্তু ২০২৫ সালের ১৬ মার্চ তিনি বলেন,
ওদের কোনো সংস্কার আমরা সহজে মেনে নেব নাসংস্কার যদি করেন, আমরা কারেকশন করব।”


বক্তব্যে এই ধরনের পরিবর্তন জনগণের মনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা


রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতামত:

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দলের নেতাদের বক্তব্য হতে হবে পরিস্কার, দৃঢ়ধারাবাহিকঅন্যথায় সাধারণ জনগণ দলের ওপর আস্থা হারাতে শুরু করে


জনমতের প্রতিফলন:

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেনিয়ে চলছে নানা আলোচনা-সমালোচনাঅনেকেই বলছেন, "নিজেরা স্থির হতে না পারলে জনগণকে কীভাবে নেতৃত্ব দেবেন?"


সামনের নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে বিএনপির এই ধরনের বিবৃতি দলটির গ্রহণযোগ্যতা এবং কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলছেএখন দেখার বিষয়, বিএনপি নেতৃত্ব কীভাবে এই দ্ব্যর্থক বার্তাগুলো পরিষ্কার করবে

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২, ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’


নববর্ষের আনন্দে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত


স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | ১৪ এপ্রিল ২০২৫


আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩২। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চলছে আনন্দ-উৎসবের বর্ণিল আয়োজন। আর তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।


এই বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল – ‘ববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক দৃঢ় বার্তা বহন করে।

সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ঢাক-ঢোল, বাউল সুর, মুখোশ, পুতুল, বিশালাকৃতির পশুপাখির প্রতিকৃতি আর লোকজ শিল্পে সাজানো ছিল পুরো এলাকা। এই শোভাযাত্রা যেন হয়ে ওঠে একটি চলমান ক্যানভাস—যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি, প্রতিবাদ ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।


শোভাযাত্রার রুট:
শোভাযাত্রাটি শুরু হয় চারুকলা অনুষদ থেকে। এরপর এটি শাহবাগ মোড় হয়ে ঘুরে যায় টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর এবং বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা ধরে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে আসে।
এই পথে হাজারো মানুষ উল্লাসে অংশ নেন, কেউ দর্শক হিসেবে, কেউবা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে। কেউ মুখোশ পরে, কেউ রঙিন পোশাক গায়ে দিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন আনন্দময় এই যাত্রার মাধ্যমে।


শিল্প ও বার্তা—একসাথে:
প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির প্রতীক sculpture ও মুখোশ। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তায় ছিল—


অসাম্প্রদায়িকতা
মানবতা
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য
সংস্কৃতির শক্তিতে সমাজ পরিবর্তনের ডাক
চারুকলা অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন,


“আমরা শুধু আনন্দ করতেই এই শোভাযাত্রায় অংশ নিই না, বরং প্রতিবাদ করি—শিল্পের ভাষায়, চিত্রের ভাষায়। এবারের থিম খুব শক্তিশালী। এটা বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।”


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পরিবেশনা:
শোভাযাত্রার আগে ও পরে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার।
ছায়ানট আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী গান ও আবৃত্তির
ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রামীণ পরিবেশনার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা
পোশাকে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি, ফুলের মালা, আলপনা ইত্যাদি


ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিকতা:
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে এই আনন্দ শোভাযাত্রা পেয়েছে ইউনেস্কোর "Intangible Cultural Heritage" স্বীকৃতি। যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এই উৎসবের তাৎপর্য বাড়িয়ে তোলে।
নববর্ষ মানেই কেবল দিন বদলের উৎসব নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবিকতা, সহাবস্থান ও প্রতিবাদী চেতনার নতুন সূচনা।


আজকের ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য সেই চেতনার প্রতিফলন। আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য রূপ।