বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই।

 

বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে উঠেছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন ছিল ‘বৈষম্যের এক জ্বলন্ত উদাহরণ’।

নির্বাচনের দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। দলটি এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ দাবি করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটি আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের শুনানি পেছানো হচ্ছে বারবার, যা দলটির মতে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রের আইন বিভাগ কি তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে?

চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী যুব আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজুম মোল্লা বলেন, “সাংগঠনিক ব্যানারে বৈষম্য দূর করার আন্দোলন করেছি রাজপথে থেকে, পুনরায় বৈষম্য দেখার জন্য নয়।” তিনি আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানিতে সম্ভাব্য বৈষম্য এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং আদালতের স্বচ্ছতা এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা আরও হ্রাস পেতে পারে।

বরিশাল শহরের সাধারণ মানুষও এ নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের বিশ্বাসে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে।

আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

দেখতে থাকুন 'ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা' — সত্যের সন্ধানে, আমরা সবসময় আপনার পাশে।

বৃহস্পতিবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৫

সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অভ্যুত্থানের রক্তের সাথে গাদ্দারীর সমতূল্য


 নির্বাচন নিয়ে চাপ প্রয়োগ করে সংস্কারকে বাধাগ্রস্ত করার অপচেষ্টা অভ্যুত্থানের রক্তের সাথে গাদ্দারীর সমতূল্য

-------------------- ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহমাদ আজ ১৭ এপ্রিল বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেন—

“মুক্তি, সাম্য, সুশাসন ও সমৃদ্ধির জন্য এই অঞ্চলের মানুষ ৪৭ ও ৭১-এ দুই দফা স্বাধীনতা যুদ্ধ করেছে। ৯০-এ স্বৈরাচার উৎখাত করেছে। তারপরেও দেশে হাসিনার মতো স্বৈরাচার তৈরি হয়েছিল রাজনৈতিক সংস্কৃতি, রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ভঙ্গুরতার কারণে। ফলে আগামীর বাংলাদেশে নতুন স্বৈরাচারের পথ রুদ্ধ করতে সংস্কার অপরিহার্য। সংস্কারকে বাধাগ্রস্থ করে এমন কোন কিছুই দেশবাসীর পক্ষে সহ্য করা সম্ভব না।”


তিনি আরও বলেন—

“হাসিনার মতো স্বৈরাচারের সূচনাও হয়েছিল একটি নির্বাচনের মাধ্যমে। পতিত ফ্যাসিবাদও তিনটা নির্বাচন করেছে। তারপরেও জাতিকে ২৪-এ রক্ত উৎসর্গ করতে হয়েছে। এর অর্থ হলো, নির্বাচনই সমাধান না। বরং সংস্কারহীন নির্বাচন আরেকটি স্বৈরচার প্রতিষ্ঠার সুযোগ করে দেবে। সেকারণে ইসলামী আন্দোলন পরিস্কার করে বারংবার দাবী জানাচ্ছে যে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।”


অধ্যক্ষ ইউনুস আহমাদ বলেন—

“সাম্প্রতিক নির্বাচন নিয়ে যেভাবে রাজনৈতিক চাপ তৈরি করা হচ্ছে তাতে সংস্কার বাধাগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। রাজনৈতিক চাপে সংস্কারকে অসম্পন্ন রেখে নির্বাচন আয়োজন করলে শতশত শহীদের রক্তের সাথে গাদ্দারি করা হবে। অভ্যুত্থানে আহতরা এখনো হাসপাতালের বিছানায় কাতরাচ্ছে। তাদের সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করা হবে।”


তিনি আরও বলেন—

“এই সরকার একটি অভ্যুত্থানের উত্তরাধিকার বহন করছে। ফলে সেই অভ্যুত্থানের দাবী ও চেতনা বাস্তবায়ন করা তাদের দায়িত্ব। আজকে যারা সংস্কারকে গৌন করে নির্বাচনের জিগির তুলেছে; ২৪-এর অভ্যুত্থানে তাদের অবদান স্বীকার করার পরেও বলতে হবে, ২৪-এ সাধারণ ছাত্র-জনতা এবং ক্ষমতার বাইরে থাকা রাজনৈতিক শক্তির অবদানই ছিল প্রধান ও মূখ্য। ফলে এখন ক্ষমতাকেন্দ্রীক দলগুলোর চাপে অভ্যুত্থানের প্রধান ধারার চিন্তা ও চেতনাকে জলাঞ্জলি দিলে ইতিহাস আমাদের ক্ষমা করবে না। তাই নির্বাচন নয় বরং সংস্কারকে মূখ্য করেই সরকারকে তাদের রোডম্যাপ তৈরি করতে হবে।”


নির্বাচন নিয়ে চাপ তৈরি করা দলসমূহের প্রতি আহ্বান রেখে তিনি বলেন—

“আপনার দলের নেতৃত্ব বাছাই প্রক্রিয়ায় নির্বাচন আয়োজন করে দেখুন। তাতেই দেখা যাবে রাজনৈতিক হানাহানি ও সংহিংসতা কি তীব্র ও হিংস্র আকারে এখনো বিরাজমান। এই বাস্তবতায় জাতীয় নির্বাচন আয়োজন করে দেশকে আবারো সহিংস ও হিংস্র রাজনীতির মধ্যে ঠেলে দেয়ার জন্য ২৪-এ ছাত্র জনতা রক্ত দেয় নাই।”


#ইসলামীআন্দোলনবাংলাদেশ 

#নির্বাচন২০২৫ 

#রাজনৈতিকসংস্কার 

#গণতন্ত্র 

#অভ্যুত্থান 

#সংবাদ