শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে ‘মার্চ ফর ঢাকা’ ঘোষণা।

 

ভারতে মুসলিম নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলনের গণসমাবেশ, ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে ‘মার্চ ফর ঢাকা’ ঘোষণা

ভারতে মুসলিমদের ওপর নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শনিবার রাজধানীতে গণমিছিলপূর্ব সমাবেশ করেছে। সমাবেশে দলটির সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করীম বলেন, "ভারতে মুসলিমদের নির্মূলের অপচেষ্টা চলছে। ওয়াকফ আইন পরিবর্তন করে মুসলিমদের জমি, মসজিদ, মাদরাসা ও কবরস্থান দখল করা হচ্ছে।" তিনি মোদী সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, মুসলমানরা জাগ্রত হলে মোদী সরকারের মসনদ টিকে থাকবে না।

তিনি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা, জাতিসংঘ ও ওআইসিকে ভারতের মুসলিম নির্যাতনের বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মাদ ইউনুসকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "নাস্তিকদের পদায়ন করে সুখে থাকা যাবে না। নারী সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান ও সংশ্লিষ্টদের আইনের আওতায় আনতে হবে, নয়তো জনগণ সমর্থন প্রত্যাহার করবে।"

মুফতি ফয়জুল করীম আরও বলেন, "আগে সংস্কার, পরে নির্বাচন। সংস্কার ছাড়া কোনো গুন্ডামি মার্কা নির্বাচন জনগণ মেনে নেবে না।" তিনি দ্রুতই ‘আগে সংস্কার পরে নির্বাচন’ দাবিতে 'মার্চ ফর ঢাকা' কর্মসূচি ঘোষণা করার ঘোষণা দেন।

সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ঢাকা মহানগর দক্ষিণ সভাপতি মাওলানা মুহাম্মদ ইমতিয়াজ আলম। বক্তব্য রাখেন দলের মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানসহ কেন্দ্রীয় ও মহানগরের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ।


বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই।

 

বরিশাল সিটি নির্বাচন: বৈষম্যের অভিযোগ, হামলা ও আইনি লড়াই

২০২৩ সালের বরিশাল সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন ঘিরে উঠেছে নানা বিতর্ক ও অভিযোগ। বিশেষ করে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এই নির্বাচনের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির ভাষ্য অনুযায়ী, এই নির্বাচন ছিল ‘বৈষম্যের এক জ্বলন্ত উদাহরণ’।

নির্বাচনের দিন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের মেয়র প্রার্থী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীমের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। দলটি এই হামলাকে ‘পরিকল্পিত’ দাবি করে ফলাফল প্রত্যাখ্যান করা হয়।

এই ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে দলটি আইনি প্রক্রিয়ার আশ্রয় নেয়। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, আদালতের শুনানি পেছানো হচ্ছে বারবার, যা দলটির মতে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক বৈষম্য’। ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের নেতারা প্রশ্ন তুলেছেন, রাষ্ট্রের আইন বিভাগ কি তার স্বাভাবিক গতি হারিয়ে ফেলছে?

চট্টগ্রাম মহানগর ইসলামী যুব আন্দোলনের আইন ও মানবাধিকার সম্পাদক তানজুম মোল্লা বলেন, “সাংগঠনিক ব্যানারে বৈষম্য দূর করার আন্দোলন করেছি রাজপথে থেকে, পুনরায় বৈষম্য দেখার জন্য নয়।” তিনি আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানিতে সম্ভাব্য বৈষম্য এড়াতে সংশ্লিষ্টদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন কমিশনের নিরপেক্ষতা এবং আদালতের স্বচ্ছতা এই সংকট নিরসনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। অন্যথায়, গণতন্ত্রের প্রতি জনগণের আস্থা আরও হ্রাস পেতে পারে।

বরিশাল শহরের সাধারণ মানুষও এ নির্বাচন নিয়ে হতাশা প্রকাশ করেছেন। অনেকেই মনে করছেন, এই নির্বাচন দেশের নির্বাচনী ব্যবস্থার ওপর জনগণের বিশ্বাসে একটি বড় ধাক্কা দিয়েছে।

আগামী ২৪ এপ্রিলের শুনানি দেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। এ প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা ও নিরপেক্ষতা নিশ্চিত না হলে তা দেশের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

দেখতে থাকুন 'ওয়ার্ল্ড ভিউস বাংলা' — সত্যের সন্ধানে, আমরা সবসময় আপনার পাশে।