সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

বাংলা নববর্ষ ১৪৩২, ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’


নববর্ষের আনন্দে মুখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়: ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্যে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা অনুষ্ঠিত


স্টাফ রিপোর্টার | ঢাকা | ১৪ এপ্রিল ২০২৫


আজ বাংলা নববর্ষ ১৪৩২। বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে রাজধানীজুড়ে চলছে আনন্দ-উৎসবের বর্ণিল আয়োজন। আর তার সবচেয়ে আকর্ষণীয় ও আলোচিত আয়োজনে পরিণত হয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের বর্ষবরণ আনন্দ শোভাযাত্রা।


এই বছরের শোভাযাত্রার প্রতিপাদ্য ছিল – ‘ববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’, যা সামাজিক ও রাজনৈতিক বাস্তবতায় এক দৃঢ় বার্তা বহন করে।

সকাল ৯টায় চারুকলা অনুষদের সামনে হাজার হাজার মানুষের সমাগম ঘটে। ঢাক-ঢোল, বাউল সুর, মুখোশ, পুতুল, বিশালাকৃতির পশুপাখির প্রতিকৃতি আর লোকজ শিল্পে সাজানো ছিল পুরো এলাকা। এই শোভাযাত্রা যেন হয়ে ওঠে একটি চলমান ক্যানভাস—যেখানে শিল্প, সংস্কৃতি, প্রতিবাদ ও ঐতিহ্যের এক অপূর্ব সমন্বয়।


শোভাযাত্রার রুট:
শোভাযাত্রাটি শুরু হয় চারুকলা অনুষদ থেকে। এরপর এটি শাহবাগ মোড় হয়ে ঘুরে যায় টিএসসি মোড়, শহীদ মিনার, বিশ্ববিদ্যালয়ের শারীরিক শিক্ষা কেন্দ্র, দোয়েল চত্বর এবং বাংলা একাডেমির সামনের রাস্তা ধরে আবার চারুকলা অনুষদে ফিরে আসে।
এই পথে হাজারো মানুষ উল্লাসে অংশ নেন, কেউ দর্শক হিসেবে, কেউবা সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে। কেউ মুখোশ পরে, কেউ রঙিন পোশাক গায়ে দিয়ে নিজের ভাবনা প্রকাশ করেছেন আনন্দময় এই যাত্রার মাধ্যমে।


শিল্প ও বার্তা—একসাথে:
প্রতিবারের মতো এবারও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদের শিক্ষার্থীরা দিনরাত পরিশ্রম করে তৈরি করেছে বিশাল আকৃতির প্রতীক sculpture ও মুখোশ। এই শোভাযাত্রার মূল বার্তায় ছিল—


অসাম্প্রদায়িকতা
মানবতা
ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্য
সংস্কৃতির শক্তিতে সমাজ পরিবর্তনের ডাক
চারুকলা অনুষদের এক শিক্ষার্থী বলেন,


“আমরা শুধু আনন্দ করতেই এই শোভাযাত্রায় অংশ নিই না, বরং প্রতিবাদ করি—শিল্পের ভাষায়, চিত্রের ভাষায়। এবারের থিম খুব শক্তিশালী। এটা বর্তমান বাস্তবতার প্রতিচ্ছবি।”


সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও পরিবেশনা:
শোভাযাত্রার আগে ও পরে আয়োজন করা হয় নানা ধরনের সাংস্কৃতিক পরিবেশনার।
ছায়ানট আয়োজন করে ঐতিহ্যবাহী গান ও আবৃত্তির
ঢাক-ঢোলের তালে তালে গ্রামীণ পরিবেশনার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা
পোশাকে ছিল ঐতিহ্যবাহী লাল-সাদা শাড়ি ও পাঞ্জাবি, ফুলের মালা, আলপনা ইত্যাদি


ইউনেস্কোর স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিকতা:
প্রসঙ্গত, ২০১৬ সালে এই আনন্দ শোভাযাত্রা পেয়েছে ইউনেস্কোর "Intangible Cultural Heritage" স্বীকৃতি। যা বাংলাদেশের জন্য গর্বের বিষয়, এবং আন্তর্জাতিক পরিসরে এই উৎসবের তাৎপর্য বাড়িয়ে তোলে।
নববর্ষ মানেই কেবল দিন বদলের উৎসব নয়, বরং সমাজ ও রাষ্ট্র ব্যবস্থায় মানবিকতা, সহাবস্থান ও প্রতিবাদী চেতনার নতুন সূচনা।


আজকের ‘নববর্ষের ঐকতান, ফ্যাসিবাদের অবসান’ প্রতিপাদ্য সেই চেতনার প্রতিফলন। আনন্দ শোভাযাত্রা হয়ে উঠেছে বাঙালির অসাম্প্রদায়িক চেতনার এক অনন্য রূপ।

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন